‘তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!'
উদ্দীপকের মজুর, মুটে ও কুলি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের তথাকথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের সমার্থক।
দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে মানুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টার উপর। কোনো একটি বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর পক্ষে এককভাবে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। যুগে যুগে যত উন্নতি ও অগ্রগতি হয়েছে তা সবার ঐক্যবদ্ধ শ্রমের মাধ্যমেই হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি সমাজের নিম্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ জয়গান গেয়েছেন। কবি এখানে বড়লোক বলে আত্মপরিচয়দানকারী তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছে সেই শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। এসব মানুষ 'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে উল্লেখকৃত তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়ের সমার্থক। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক বলেছেন এসব মানুষের ওপরই আমাদের দেশের দশ আনা শক্তি নির্ভর করে। এই তথাকথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ। তাদের অবহেলা করার কারণেই দেশ আজ অধঃপতনের দিকে ধাবিত। দেশে জনশক্তি বা গণতন্ত্র গঠিত হতে পারছে না। প্রবন্ধের এই উপেক্ষিত মানুষেরা উদ্দীপকের মুটে-মজুর-কুলিদের সমার্থক।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' শীর্ষক প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত নজরুল রচনাবলি (জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, প্রথম খণ্ড) থেকে সংকলন করা হয়েছে । অবিভক্ত ভারতবর্ষের পটভূমিতে লেখা প্রবন্ধটি সম্পাদনা করে পাঠ্যভুক্ত করা হয়েছে। এটি কাজী নজরুল ইসলামের যুগবাণী নামক প্রবন্ধ-গ্রন্থের একটি রচনা। আলোচ্য প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। একটি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছোটো-বড়ো, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করা আবশ্যক। বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান জাতি ও রাষ্ট্র গঠন করতে প্রতিটি দেশের মনীষীগণ আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁদের নির্দেশিত পথে যদি আমরা পরিভ্রমণ করতে পারি তবে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে। প্রবন্ধটিতে জাতি, ধর্ম, সমাজভেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। এ প্রবন্ধ শ্রেণি, ধর্ম, জাতি ও সমাজভেদমুক্ত বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?